অ্যালার্জি কি?

মানবদেহে প্রায়ই নানা ধরনের  ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করে। এরা সবসময়ই যে ক্ষতিকর এমন নয়,কিন্তু প্রায়ই ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। এরা কখনো-কখনো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মানবদেহও কিন্তু বসে নেই। বহিরাগত এসব উপাদানকে প্রতিরোধ করার জন্য একটু একটু করে নিজের ভেতর সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে নিয়েছে। এ ব্যবস্থাকে বলা হয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম। বহিরাগত ক্ষতিকর উপাদান যখন দেহে প্রবেশ করে, তখন এই রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ওই ক্ষতিকর উপাদানের সাথে লড়াই করে। এদের লড়াইয়ে তথা কোষের উত্তাপে দেহে জ্বর উঠে যায় কিংবা ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা যায়,গা চুলকায়,লাল লাল দাগ পড়ে কিংবা সর্দিকাশি হতে পারে।আপাতদৃষ্টিতে এই অসুস্থতাগুলোকে দেহের জন্য খারাপ বলে মনে হয়। তবে সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে এদেরও প্রয়োজন আছে।কারণ এই ব্যবস্থা না থাকলে বেচে থাকাই কঠিন হয়ে যেতো।

কিন্তু সচরাচর ভালোরও কিছু না কিছু ত্রুটি থাকে। তেমনি দেহের এই প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিরও কিছু ত্রুটি রয়েছে। প্রায়ই এই ব্যবস্থা দেহের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন উপাদানকে ক্ষতিকর বলে ভেবে নেয়। তখনই বিপত্তি বাধে। এর একটি উপাদান হচ্ছে ফুলের গন্ধ। অনেকেই ফুলের সুবাস নিতে পারেন না। কারণ ফুলের রেণু যখন নাক দিয়ে ঢুকে পড়ে তখন দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এদের হুমকি বলে ধরে নেয়। কিন্তু আসলে এরা দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। এমনই কিছু ঘটনায় রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ভুল বোঝার কারণে বিনা কারণেই দেহে চুলকানি হয়,লাল লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই রকম ঘটনাকে বলা হয় অ্যালার্জি। অনেকেরই আবার ধুলাবালিতে অ্যালার্জি আছে। তাদের নাকে ধুলাবালি ঢুকলেই শুরু হয়ে যায় অ্যালার্জির যন্ত্রণা। কিন্তু ধুলাবালি আমাদের দেহের জন্য একেবারেই নিরীহ উপাদান। অনেকের আবার বিশেষ খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। এসব খাবার কিন্তু মোটেই দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। যেমন গরুর মাংস,চিঙড়ি,ইলিশ,বেগুন এগুলোর সবগুলিই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু অনেকেই এগুলো খেতে পারে না শুধু অ্যালার্জির কারণে।

এই অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্জি একটা স্থায়ী সমাধান খুজছে অস্ট্রেলিয়ান একদল গবেষক। অ্যালার্জিক কার্যক্রম সক্রিয় হয় ইমিউনোগ্লোবোলিন ই নামের একটা উপাদানের উপস্থিতিতে। এই উপাদানটি আবার কোষে গিয়ে বিশেষ ধরণের রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে। ফলে অ্যালার্জিক বিক্রিয়া ঘটে। এখন কোনোভাবে যদি IGE কে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে অ্যালার্জি। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? ইদুরের দেহে বিশেষ একধরনের কোষ আছে। সেই কোষ ইদুরের দেহের ইমিউনোগ্লোবোলিন ই-কে নিয়ন্ত্রণ করে। ইদুর এবং মানুষ  উভয়ই স্তন্যপায়ী প্রানী। অনেক দিক থেকে তাদের সাথে মানুষের মিল আছে। সে হিসাবে এ রকম কোষ মানুষের দেহেও থাকার সম্ভাবনা প্রবল। অস্ট্রেলিয়ান ওই গবেষকদল অনেক অনুসন্ধানের পরে এই বিশেষ কোষ খুজে পেয়েছেন মানুষের দেহে।

এটি যদি স্বাভাবিক উপায়ে ব্যবহার করা যায় তাহলে হয়তো খুব শীঘ্রই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে লাখ লাখ ভুক্তভোগী। কবে নাগাদ এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের হাত ধরে সবার ব্যবহার উপযোগী হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে গবেষক দল এ নিয়ে বেশ আশাবাদী।

অস্ট্রেলিয়ায় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সেখানে প্রতি পাচজনে একজন অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। তাই সে দেশের গবেষকেরা এই প্রকট সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এটি যদি বাস্তবায়িত হয় পুরো পৃথিবীই এর সুফল ভোগ করবে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই চলে আসলে অ্যালার্জির ভ্যাকসিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here