করোনাভাইরাসঃ লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া হলিউড সিনেমা কনটাজিওনকে এতদিন পর আবার গুরুত্ব দিচ্ছে সবাই। বক্স অফিস কাপানো এ সিনেমার কাহিনী ছিলো,হংকংয়ের এক জঙ্গলে একধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সাথে নিপা ভাইরাসের জেনেটিক সম্মেলনে সৃষ্টি হয়েছিলো এক বিশেষ ধরনের ভাইরাস। সিনেমার কাহিনীতে দেখা যায় মাত্র ২৬ দিনে আক্রান্ত হয় প্রায় ২৬ মিলিয়ন মানুষ। সিনেমার একেবারে শেষে দর্শক জানতে পারে ‘জিরো পেশেন্ট’ ছিলো একটি বাদুর যে কিনা গাছে ঝুলানো একটি কলায় কামড় দেয় এবং তা সংক্রমিত করে। তারপর সেই দুষিত কলা খেলে আক্রান্ত হয় একটি শুকর।সেই শুকুরের মাধ্যমেই ভাইরাসটি একজন বাবুর্চিকে সংক্রমিত করে এবং বাবুর্চি হ্যান্ডশেক করেন তার কাস্টমারে সাথে এবং সংক্রমিত হয় কাস্টমারটিও ধীরে ধীরে পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে।

এতদিন পর এ সিনেমায় কাহিনী লোকমুখে প্রচলিত হওয়ার কারণ এ ভাইরাসের সাথে অনেক মিল রয়েছে কোভিড-১৯ এর। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড দ্বারা তৈরি।করোনার যতগুলো প্রজাতি আছে সবগুলোর জিনমই একসূত্রক আরএনএ বিশিষ্ট। আরএনএ এবং প্রোটিং মিলে নিউক্লিওক্যাপসিড নামে একটি কাঠামো তৈরি করে।আর সেটি আবৃত থাকে বিভিন্ন প্রোটিন দ্বারা তৈরি এনভেলপ দ্বারা।

আক্রান্তের লক্ষণঃ সাধারণ সর্দি কাশির সাথে কোভিড -১৯ এর পার্থক্য খুব কম। মুখ গলা শুকিয়ে যায়।জ্বর থাকতে পারে। কাশিতে কোনো কফ বের হয়না। সঙ্গে ডায়রিয়া থাকতে পারে। শিশু,বৃদ্ধ,ডায়াবেটিস এর রোগী,যক্ষারোগী,কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি পাওয়া ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার ৩% এর কম যেখানে সার্স ভাইরাসে মৃত্যু হার ১১%।

কনটাজিওন সিনেমার সতর্কতামূলক একটি অংশ। Image: theverge.com

প্রতিরোধঃ কনটাজিওন সিনেমায় আমরা দেখেছিলাম ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়। সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের সবচেয়ে সহজ উপায়। তাই অবশ্য হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি কিংবা যেকোনো ধরনের সামাজির দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। ভাইরাস বিরোধী অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগগুলো খুব নিবিড় ভাবে কাজ করতে পারে না।অনেকসময় অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা ভাইরাস ঠেকাতে গেলে নিজের কোষের যন্ত্রপাতিই ক্ষতি হয়। তাই সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হওয়ার আগে একমাত্র বাচার উপায় হচ্ছে, ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়া। তাই নিয়মিত ৩০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।রোগাক্রান্ত ব্যাক্তির আশেপাশে যাওয়া যাবে না। রোগাক্রান্ত কেউ স্বেচ্ছাগৃহবন্দী থাকলে তার সেবাদানকারী ছাড়া অন্য কেউ তার কাছে যাবে না। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২-১৪ দিন। তাই বিদেশফেরত কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তির অবশ্যই ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইন এ থাকতে হবে।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। এবং সবধরনের জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক কোনোভাবেই ভাইরাস আটকাতে পারে না,তাই অবশ্যই N-95 মাস্ক পরিধান করবে হবে এবং মাস্ক খোলার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। একটি মাক্স কোনো মতেই ২/৩ দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে খুব শীঘ্রই IEDCR এর হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এটা শুধু জাতীয় সমস্যা নয় WHO এটাকে বিশ্বমহামারী হিসাবে ঘোষনা দিয়েছে। যেহেতু প্রতিকার নেই আমাদের মূলমন্ত্র হওয়া উচিৎ ‘প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here