করোনার দিনগুলোতে মানসিকভাবে ভাল থাকবেন যেভাবে

করোনার প্রভাবে আমরা এখন বন্দী জীবন যাপন করছি। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুশ্চিন্তা। কবে এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাব তারও কোনো সুনির্দিষ্ট সময় আমরা জানি না। প্রতিদিন যে করোনার আপডেট শুনছি তা থেকে খুব বেশি আশার আলো দেখা যাচ্ছে না । এই দিকে অফিস ম্যানেজ করতে হচ্ছে বাসা থেকে। কারো কারো আবার অফিস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেউ হয়তো দুই মাস চলার মতো বেতন পেয়েছেন। কেউ আবার খালি হাতেই বাসায় এসেছেন।

লকডাউন যেহেতু প্রতিনিয়ত বাড়ছে অফিস খোলার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় আমরা এখনো জানিনা। চারদিকে শুধুই অনিশ্চয়তা। এই বিশাল অনিশ্চয়তা থেকে দুশ্চিন্তা আসা খুবই স্বাভাবিক। চলুন আমরা দেখে নিই কিভাবে আমরা দুশ্চিন্তা মোকাবেলা করতে পারি এই করোনার দিনগুলোতে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি আমরা একটি রুটিন বানিয়ে ফেলি। যেহেতু আমরা ঘরে আছি সেহেতু অনেকেই একটু রিলাক্স ভাবে দিন শুরু করতে চান। আর এটাই কিন্তু দুর্গতির সূচনা করে। স্বাভাবিক দিনগুলোতে কিন্তু আমরা রুটিন মেনে চলি। সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা সকালের নাস্তা শেষ করে ছেলে অথবা মেয়েকে স্কুলে ড্রপ করে অফিসে যাওয়া ইত্যাদি। এখন লকডাউনে এর কোনটাই আমাদেরকে করতে হচ্ছে না। তাই আমরা রাত জেগে টিভি দেখছি অথবা গান শুনছি অথবা অফিসের কাজ করছি, যেটা দিনের বেলাতে আমাদের করার কথা। মনের অজান্তেই কিন্তু এটা আমাদের রুটিন হয়ে যাচ্ছে।

ঘুম আমাদের দেহের একটি মৌলিক চাহিদা। আমরা যে অবস্থাতেই থাকি পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের প্রয়োজন। ঘুম কম হলে এটা হয়তো সাময়িক সমস্যা হয় কিন্তু এটা শরীরের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রেখে যায়। করোনার দিনগুলোতেও আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে রাখে। লকডাউনেও এর ব্যতিক্রম করা যাবেনা।

যদি ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন তাহলে খুবই ভালো হয়। বাড়িতে থেকে থেকে হয়তো বিরক্ত অনুভব করছেন। নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম আপনাকে বাড়তি এনার্জি পেতে সহায়তা করবে। আজকাল ইউটিউবে অনেক ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজের ভিডিও পাওয়া যায়। অথবা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম দেহে সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন প্রবাহিত হতে সহায়তা করে। এতে হার্টে রক্তের সঞ্চালন বাড়বে। ব্যায়ামটা দিনের বেলাতে সেরে ফেলুন। সারা দিন ভালো যাবে।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

করোনা বা লক ডাউনের এই সময়টাতে দুশ্চিন্তা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবুও যতটা পারুন দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন। এতে আপনার মানসিক অবসাদ কমবে। মানসিক অবসাদ থেকেই অনিদ্রা রোগ হতে পারে। মনকে বোঝাতে পারেন যে কঠিন দিনগুলোতে দুশ্চিন্তা করে কোন লাভ নেই। বরং কিভাবে পজিটিভ চিন্তা করে সাহসের সাথে কঠিন সময়টাকে মোকাবেলা করা যায় সেটা ভাবা উচিত। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেটার উপরে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই যেমন, করোনা বা লকডাউন নিয়ে দুশ্চিন্তা করে আমাদের কোন লাভ হবে না। এতে করে হতাশা ভর করবে যেটা কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়। এভাবে চিন্তা করে দেখলে মানসিক অবসাদ থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন:

১. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

২. একাকিত্ব দূর করতে ফোনে বা অনলাইনে কারো সাথে কথা বলুন অথবা বই পড়ুন

৩. মিথ্যা তথ্য বা গুজব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন

৪. যোগ ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন ( ইউটিউব দেখে শিখতে পারেন)

৫. শরীরের যত্ন নিন

৬. ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন

৭. নেগেটিভ চিন্তা পরিহার করুন। যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, তাদের করোনার ঝুকি কম থাকে

পরিশেষে বলতে চাই ,মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে। ভালো দিন সামনে আসবেই, সুদিন আমাদের সুনিশ্চিত।

Feature Image: sciencemag.org

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here