বিষ্ময়কর কলম আবিষ্কার হলো যেভাবে

কলম আবিষ্কার হলো যেভাবে

আমরা প্রায় প্রতিদিনই কলম দিয়ে কিছু না কিছু লিখি। কিন্তু একবারও কি জানতে ইচ্ছে হয় নি যে, এই কলম আবিষ্কার হলো কীভাবে? আজকে আমরা এই কলমের আবিষ্কারের কাহিনী জানতে চেষ্টা করবো।

আমরা এখন যে বল পয়েন্ট কলম দিয়ে লিখি, আগে এরকম কলম ছিল না। আগের দিনে মানুষ কোনো কাঠির ডগা দিয়ে লিখতো। তারপর তারা কোনো তীক্ষ্ণ কাঠি দিয়ে লেখা শুরু করলো। প্রায় হাজার চারেক বছর আগে গ্রীস বাসীরা রীতিমত কোনো কিছুর ডগা দিয়ে লিখা শুরু করে দেয়। এদের কলম তৈরি হত হাতির দাঁত বা এইজাতীয় কিছু দিয়ে। যার নাম ছিল স্টাইলস(Stylus)। সেজন্য এখনও লেখার ধরনকে “স্টাইল” (Style) বলা হয়ে থাকে। ১৮৮৪ সালে ওয়াটারম্যান(L.E.Waterman) আবিস্কার করেন ফাউন্টেনপেন।তবে এর নিব তৈরিতে প্রয়োজন হত ১৪ ক্যারেট সোনা।আর ডগা তৈরিতে লাগত ইউরিডিয়াম। তাই এই কলম ছিলো খুব ব্যয়বহুল। একবার ভেবে দেখুন যে, কলম তৈরিতে স্বর্ণ ও ইউরিডিয়াম লাগে!

১৮৮৮ সালের দিকে জন লাউড নামক একজন চামড়া ব্যবসায়ী এমন কলম খুঁজছিলেন যেটা দিয়ে চামড়ার উপর লেখা যায়।  তখন তিনি এমন একটি কলম বানাতে সক্ষম হন যাতে একটি ছোট খোপে কালি জমা থাকতো।আর সেই কলমের মাথায় ‘ঘুরতে পারে’ এমন একটি স্টিলের বল লাগানো ছিল।পরবর্তী ত্রিশ বছরে বলপেনের আরও সাড়ে তিনশটি প্যাটেন্ট গৃহীত হলেও নানা সমস্যার কারণে কোনটিই আলোর মুখ দেখেনি।লাউডের কলম থেকে শুরু করে পরবর্তী এই সাড়ে তিনশ রকমের কলমের সবচেয়ে বড় ঝামেলা ছিল ‘কালি’। পাতলা হলে বলের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেত আর ঘন হলে জমে যেত।তাপমাত্রা কমলে, বাড়লেও একই সমস্যা দেখা দিত।

হাঙ্গেরির ল্যাডিসলাসবিরো এর হাত ধরে কলম আবিষ্কারের এক নতুন যুগ শুরু হয়। বলা যায় যে, তিনিই প্রথম মোটামুটিভাবে উন্নতমানের কলম তৈরি করেন। কিন্তু তিনি কলম আবিষ্কার করে দেখলেন যে, পত্রিকা ছাপার কাজে যে কালি ব্যবহার করা হয়, সেটি সহজেই শুকিয়ে যায় এবং কাগজে অতিরিক্ত দাগও লাগে না। তিনি তার ভাই জর্জকে সাথে নিয়ে বানিয়ে ফেললেন একটু উন্নত মানের বলপয়েন্ট কলম। এই কলমে ব্যবহার করা হয় শিস। আর শিসের মাথায় একটি বল সিস্টেম রাখা ছিল যেটা লেখার সময় ঘুরবে।

১৯৩৮ সালে তিনি তার বলপেনের ব্রিটিশ প্যাটেন্ট নেন। পরবর্তীতে তাদের এই কলমের প্যাটান্ট অনুযায়ী আর্জেন্টিনায় কলম তৈরি হয়।সেসময় রেয়নোল্ডস নামক এক আমেরিকান ব্যক্তি আর্জেন্টিনায় ঘুরতে আসলেএই কলম তার নজরে আসে। তিনি এই মডেলের কয়েকটি কলম কিনে আমেরিকায় চলে আসেন। তারপর তিনি এই বিরো ভাইদের কলমের মডেলকে আরও উন্নত করেন। এরপরে তিনি “রেয়নোল্ডস ইন্টারন্যাশনাল পেন কোম্পানি” নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই কলমের মডেলেরও অনেক সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে জে. ফ্রলি ও ফ্রান সিচ নামক রসায়নবিদ এই কলমের মডেলের আরও উন্নতি আনেন।

কিন্তু এসব কলমের দাম ছিলো অনেক। বিশেষ করে এসব কলমের দাম ছিলো প্রচুর আর মান ছিলো নিম্নমানের। মার্সেল বিক এ বিষয়কে মাথায় রেখে বিরো ভাইদের কলমের মডেলকে আরও উন্নত করেন। তিনি দুইবছর ধরে বাজারে প্রচলিত সব কলম নিয়ে গবেষণা চালিয়েযান।১৯৫২ সালে সব সমস্যা দূর করে তিনি নিয়ে আসেন কম দামে অসাধারণ এক বলপেন“Ballpen BIC” ।

এরপরে আরও গবেষণা চলতে থাকে। পরবর্তীতে মোর লবণকে কলমের কালি হিসেবে ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কম খরচে উন্নতমানের বল পয়েন্ট কলম তৈরি করেন। এই মোর লবণের সংকেত হলো:FeSO4.(NH4)2SO4.6H2O.

এই কলম আবিষ্কার আজকের পৃথিবীর জ্ঞান অর্জনের পথকে প্রসস্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। সারাবিশ্বে অনেক কোম্পানী কলম তৈরি করে। আমাদের দেশেও অনেক প্রতিষ্ঠান কলম তৈরি করে। আজকে আমরা আধুনিক কলম আবিষ্কারের কাহিনী সম্পর্কে জানলাম।

কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস জানতে পড়ুন

লেখা ও তথ্য সংগ্রহ: সুদিপ্ত কুমার নাগ

Feature Image:bluemaize.net

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here