কিভাবে স্বামী অথবা স্ত্রীর কাছে প্রিয় হবেন

মানুষ জীবনে কত ধরনের শিক্ষাই না অর্জন করে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়ায় বিভিন্ন ধরনের কোর্স করার উদ্দেশ্যে । যেগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের কর্মজীবনে তরতর করে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কিন্তু কতজন মানুষ আছেন যারা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে কেমন আচরণ করতে হবে কিংবা কিভাবে তাদের সাথে জীবনযাপন করতে হবে তার ওপরে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাকুলতা প্রকাশ করে? আসলে আমরা কর্মজীবনের চেয়ে সাংসারিক জীবনকে অনেক সময় কম গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর ঠিক এই কারণেই আপনি দেখে থাকবেন উচ্চপদস্থ এমন অনেক মানুষ আছে যাদের সাংসারিক শান্তি বলে কিছু নেই। তাই কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংসারিক আচার আচরণগত দক্ষতাও মানুষের অর্জন করা উচিত।  

১. আপনার পত্নীর ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দিন

প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত পছন্দ বলে একটা বিষয় থাকে। আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সেই ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বিষয়গুলি খুঁজে বের করে সেগুলোকে বোঝার চেষ্টা করুন। যখন আপনি আপনার পত্নীর ব্যক্তিত্ব বুঝতে পারবেন তখন তার সাথে কিভাবে কথা বললে বা কোন ধরনের আচরণ করলে তার কাছে প্রিয় হওয়া সম্ভব হবে সেটা খুব সহজেই আপনি খুঁজে পাবেন। এছাড়া এই বিষয়টি আপনাদের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়ার সৃষ্টি করবে। এতে করে সহজেই আপনার পত্নী আপনার কথা শুনতে বাধ্য হবে। 

২. সদয় হোন

কোন মানুষের কাছে প্রিয় হতে হলে তার প্রতি সদয় হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি সব সময় আপনার সঙ্গিনীর পেছনে লেগে থাকেন তাহলে মনে হয় না আপনাদের মাঝে বোঝাপড়ার কোন সম্পর্কের অবকাশ থাকবে। 

আপনি এই বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে সহজে বুঝতে পারবেন। কুকুরকে যদি অবিরতভাবে আপনি বিরক্ত করতে থাকে তাহলে সে কিন্তু একসময় আপনাকে কামড় দেবে। কিন্তু সেটা না করে আপনি যদি তাকে আদর করে ভালোবেসে কিছু খেতে দেন তাহলে দেখবেন সে সহজেই আপনার অনুগত হয়ে গেছে। 

তাই মানুষের কাছে প্রিয় হতে হলে তার প্রতি সদয় আচরণ করুন। এখানে আমি কুকুরের বিষয়টি শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছি । 

৩. সব সময় নিজের পছন্দের কাজ করবেন না

নিজের পছন্দের কাজগুলো করার পাশাপাশি অবশ্যই আপনার সঙ্গিনী যেটা পছন্দ করে সেটাও করতে ভুলবেন না। আপনি যদি বাহিরে যেতে পছন্দ করেন এবং আপনার সঙ্গিনী যদি ঘরে থাকতে পছন্দ করে তাহলে এমন কিছু করুন যাতে দুজনেই অনেক মজা পান। এতে করে আপনাদের মাঝে ভালো একটা বোঝাপড়ার সম্পর্কের সৃষ্টি হবে যা আপনাকে আপনার সঙ্গিনীর মনকে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। তাই নিজের পছন্দের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করার পাশাপাশি আপনার পত্নীর পছন্দের কাজগুলো তো তাকে সঙ্গ দিন। 

৪. ভদ্রভাবে কথা বলুন

আসলে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল একে অপরের সাথে ভদ্রভাবে কথা না বলা। আমি একদিন এক মহিলাকে দেখেছিলাম যিনি বলছিলেন যে আমি যদি বাবা হতাম। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে আপনার স্বামী কখনো কি আপনার এই কথা শুনেছে? তিনি বললেন যে হ্যাঁ তার স্বামীও শুনেছে। আমি বললাম তিনি কখনো এই ব্যাপারে আপনাকে মতামত দেয়নি? তিনি উত্তর দিলেন আমার স্বামী অল্প কথা বলেন। এবং তিনি এই কথার উত্তরে আমাকে বলেছিলেন যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের যেভাবে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছে ঠিক সেইভাবে আমরা এসেছি। আমরা চাইলেও নিজেদেরকে পরিবর্তন করে নিতে পারব না। আমার স্বামীর এ কথাটি প্রথমে একটু অন্যরকম লাগলেও এটাই সঠিক কথা। 

এখন মহিলাটির স্বামী যদি তার এই ইচ্ছার উত্তর অত্যন্ত তিক্ত ভাবে দিতেন তাহলে কি মহিলাটি তার স্বামীর প্রতি এ ধরনের পজিটিভ মনোভাব প্রকাশ করত? তাই একে অপরের সাথে কথা বলার সময় ভালোভাবে কথা বলাটা ভালো সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বেশি জরুরী। 

৫. ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না

একজন স্বামী বা স্ত্রী চাইলেই জোর করে একে অপরকে যেকোনো কাজে রাজি করাতে সক্ষম। কিন্তু জোর করে কোন কিছুতে রাজি করালে বা কোন কাজ সম্পূর্ণ করলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অনেক বেশি অবনতি ঘটে। এর ফলে পরবর্তীতে আপনার স্বামী বা স্ত্রী কখনো আপনার কোন কথা শোনা তো দূরের কথা বুঝতেও চাইবে না। তাই কখনো কোনো ব্যাপারে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আপনার পত্নীর উপরে জোর পূর্বক কোনোকিছু চাপিয়ে দেবেন না। বরং তাকে বুঝিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করুন যা পরবর্তীতে আপনার পথ অনেকটা সহজ করে দেবে। 

৬. তর্কে জড়াবেন না

তর্ক মানুষের আত্মিক সম্পর্ক কে খুব দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। তাই স্বামী-স্ত্রী কখনো তর্কাতর্কিতে জড়াবেন না। যদি দেখেন তর্কাতর্কির কোন অবস্থা আসার পর্যায়ে তাহলে ঠিক তখনই আপনি নত স্বীকার করুন। এতে করে দেখবেন আপনার সঙ্গিনীর মনেও এক ধরনের সংসশয় দেখা দেবে। যার ফলে আপনার প্রতি তার সম্মান এবং ভালোবাসা দুটোই বেড়ে যাবে এবং পরবর্তীতে তর্কাতর্কি থেকে আপনাদেরকে দূরে রাখবে। 

৭. কারণ খুঁজে বের করুন

আপনার স্ত্রী আপনার কথা শুনছে না। কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে আপনার স্ত্রী কেন আপনার কথা শুনছে না? আপনি কি তাকে সঠিক কথা বলছেন না নাকি আপনার বলা কথাগুলো তে কোন সত্যতা নেই? কিংবা এমনও তো হতে পারে যে আপনার কর্তৃত্বের মাধ্যমে তাকে সমস্যায় ফেলে দিচ্ছেন। আপনার পত্নীর কথা না শোনার পেছনে অবশ্যই কোন না কোন কারণ রয়েছে। কারনগুলোকে খুজে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। 

৮. এড়িয়ে চলুন

আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী যদি প্রচন্ড পরিমানে বদমেজাজী কিংবা অহংকারী হয়ে থাকে তাহলে সেই আচরণগুলি বন্ধ করার অন্যতম একটি উপায় হল সেগুলো এড়িয়ে চলা। যখন সে আপনার সাথে এধরনের আচার আচরণ বা কথাবাত্রা বলবে তখন সেগুলোর কোনো উত্তর দেবেন না। এভাবে দিনের পর দিন তার অহংকারী আচরণের কোন রেসপন্স না পেলে সে আস্তে আস্তে এগুলো বন্ধ করে দেবে। তখন সহজেই আপনি তাকে আপনার বশে আনতে সক্ষম হবেন। 

৯. নীতিগত বিষয়গুলি লক্ষ্য রাখুন

আপনার সঙ্গিনী আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আরেকটি কারণ হতে পারে অন্যায় ভাবে তার ওপর কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া। তাকে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যদি আপনি তার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান তাহলে সেটা কখনো সম্ভব হবে না। তাই অন্যায় বিষয়গুলোকে নিজের মধ্য থেকে বের করে দিয়ে সব সময় নীতিগত বিষয় গুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন। এতে করে অনেক সময় না চাইলেও ন্যায়ের কারণে হলেও আপনার কথা মেনে নিতে বাধ্য হবে। 

১০. দায়িত্ব নিন

সংসারের কোনো দায়-দায়িত্ব যদি আপনি ঠিকমতো পালন না করেন তাহলে কখনো আপনার সহধর্মিনী আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সব কাজ যদি তাকেই করতে হয় তাহলে সেখানে আপনার কি দরকার? তাই নিজের কাঁধে সংসারের দায়িত্ব গুলো তুলে নিন এবং সেগুলো ভালোভাবে পালন করার চেষ্টা করুন। এতে করে সংসারে আপনার সহধর্মিনী আপনার মূল্য বুঝতে পারবে এবং যেকোনো কাজে আপনার মতামতকে মেনে নিতে কখনও দ্বিধাবোধ করবে না। 

১১. উপহার দিন

যে কোন মানুষকে খুশি রাখার অন্যতম একটি উপায় হল মাঝে মাঝে তাদেরকে উপহারস্বরূপ কোন কিছু প্রদান করা। মাসে অন্তত একবার হলেও যদি আপনি আপনার পত্নীকে ছোট খাটো উপহার দিতে পারেন তাহলে সে সব সময় আপনার ওপরে খুশি থাকবে এবং আপনার যেকোন কথা সহজেই মেনে নেবে। তাই সম্ভব হলে মাঝে মাঝে ছোটখাটো উপহার দিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।

আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে সারা পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৬০ শতাংশ নারী পুরুষ তাদের বৈবাহিক জীবনের ১৮ বছরে ডিভোর্সের আশ্রয় নিয়ে থাকে। এর অন্যতম কারণ হলো তাদের নিজেদের মধ্যে একে অপরের বোঝাপড়া না থাকা। তাই আপনিও যদি নিজেকে সেই ৬০% এর বাহিরে রাখতে চান তাহলে আজই উপরে বর্ণিত বিষয়গুলি নিজের জীবনে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করুন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here