ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কোন অপরাধে কি শাস্তি জেনে নিন

ট্রাফিক সার্জেন্ট

আমাদের দেশে গাড়ীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসছে না ট্রাফিক শৃঙ্খলা। এই শৃঙ্খলা না মানার কারনে তৈরি হচ্ছে জ্যাম-জট ও সড়ক দূর্ঘটনা। প্রতি দিন কয়েক লক্ষ ঘন্টা আমাদের নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই জ্যাম-জটের কারনে। হারাচ্ছি আমাদের প্রিয় মানুষগুলোকে গাড়ীর চাকার নিচে। তবুও যখন আমাদের বিবেক নেই তাহলে আইনের আশ্রয় নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। সেই লক্ষ্যে তৈরি করা হয় “মোটরযান আইন” ১৯৮৩। এই আইনে বর্ণনা করা হয় কোন ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সেই আইনের জন্য কোন ধরনের শাস্তি। তাই একজন চালককে গাড়ী নিয়ে রাস্তায় নামার আগে অবশ্যই ট্রাফিক আইন জেনে নামতে হবে। যদি আইন না জেনে ট্রাফিক আইন অমান্য করেন তবুও গুনতে হবে জরিমানা। তাই ট্রাফিক আইন জানা আবশ্যক।

ট্রাফিক আইন সমূহ ও শাস্তির বিধান

‘মোটরযান আইন’ অনুযায়ী কোন অপরাধে কি শাস্তি রয়েছে আছে তা নিন্মে ঢাকা ম্যাট্রোপলিটন পুলিশ এর সূত্র অনুযায়ী বর্ণনা করা হল।

১) নিষিদ্ধ হর্ন/হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে জরিমানা ১০০ টাকা ধরা হয়েছে (ধারা নং- ১৩৯)

২) ট্রাফিক পুলিশের আদেশ অমান্য করা, বাধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে। জরিমানা ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে ।(ধারা- ১৪০/১)

৩) ওয়ানওয়ে সড়কে বিপরীত দিক দিয়ে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা ধরা হয়েছে ২০০ টাকা (ধারা নং-১৪০/২)

৪) অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে জরিমানা রাখা হয়েছে ৩০০ টাকা। এই অপরাধের যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে জরিমানা ৫০০ টাকা ধরা হয়েছে। (ধারা নং-১৪২)

৫) দুর্ঘটনা ঘটার ফলে সেই দূর্ঘটনা সম্পর্কে যে সকল অপরাধ থানায় জানানো হয়নি তার জরিমানা রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা। এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ১০০০ টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে। (ধারা নং-১৪৬)

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

৬) নিরাপত্তা বিহীন অবস্থায় গাড়ি চালানো হলে তার জরিমানা রাখা হয়েছে ২৫০ থেকে  ১০০০ টাকা। (ধারা নং-১৪৯)

৭) কালো ধোয়া বা অতিরিক্ত ধোয়া বের হওয়া মোটরযান ব্যবহার করলে তার জরিমানা ধরা হয়েছে ২০০ টাকা। (ধারা নং-১৫০)

৮) মোটরযান আইনের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রয় বা ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তন সাধন করলে জরিমানা নির্ধারন করা হয়েছে ২০০০ টাকা। (ধারা নং-১৫১)

৯) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিট ছাড়া মোটরযান ব্যবহার করলে জরিমানা রাখা হয়েছে ১৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে জরিমানা ২৫০০টাকা ধরা হয়েছে। (ধারা নং- ১৫২)

১০) অনুমোদন বিহীন এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োগ করার কারণে জরিমানা ৫০০ টাকা ও অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ১০০০ টাকা রাখা হয়েছে। (ধারা নং-১৫৩)

১১) অতিরিক্ত মাল বহন বা অনুমোদিত ওজন অতিক্রম পূর্বক গাড়ি চালনোর ফলে জরিমানা ধরা হয়েছে ১০০০ টাকা ও অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে ২০০০ টাকা। (ধারা নং-১৫৪)

১২) গাড়ীর বীমা করা ছাড়া গাড়ি চালানোর ফলে জরিমানা ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা। (ধারা নং-১৫৫)

১৩) অনুমতি বা লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ি চালানোর ফলে জরিমানা রাখা হয়েছে ৭৫০ টাকা। (ধারা নং-১৫৬)

১৪) প্রকাশ্য সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে জরিমানা রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা। (ধারা নং-১৫৭)

১৫) গাড়ির ব্রেক কিংবা অন্য কোন যন্ত্র বা গাড়ির বডি কিংবা স্পিড গভর্নর সিল অথবা ট্যাক্সি মিটারের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ কর হলে জরিমানা ৫০০ টাকা।(ধারা নং- ১৫৮)

১৬) যে সকল অপরাধের জন্য মোটরযান আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই তার জরিমানা ২০০ টাকা ও ঐ অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে ৪০০ টাকা। (ধারা নং- ১৩৭)

রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ট্রাফিক আইন জানা ও মানা অাবশ্যক। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই ট্রাফিক আইন জেনে আমরা রাস্তায় গাড়ী নিয়ে নামব।  

Image:straitstimes.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here