তিব্বত – প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্যের আরেক নাম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অন্যতম লীলাভূমি তিব্বত

“তিব্বত স্নো” নামটা বোধ হয় অনেকেই শুনেছি। শীতের সময় আমরা প্রায় ব্যবহার করি, কিন্তু এ তিব্বত নামটা কোন জায়গা থেকে আসলো? চলুন জেনে আসি, তিব্বত সম্পর্কে।

তিব্বত যাকে বলা হয় “পৃথিবীর ছাদ”। এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত। সাড়ি সাড়ি পাহাড় পর্বতে ঘেরা তিব্বত যেন সবসময় আকাশকে স্পর্শ করতে চায়। মূলত তিব্বতের মালভূমির উচ্চতা গড়ে ১৬০০০ ফুট, যার দরুন তিব্বতকে পৃথিবীর ছাদ বলতে কারো কোনো দ্বিধা নেই।

তিব্বত বর্তমানে চীনের অংশ, তাই তিব্বতকে অন্যদিকে পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে ধরা হয়। তিব্বতের কোল ঘেষেই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট, যা নেপাল বর্ডারে অবস্থিত।

ছবিতে তিব্বত এর সৌন্দর্য্য দেখতে পাচ্ছেন

তিব্বতের আরেকটা নাম আছে, “পৃথিবীর জলাধার”। জলাধার কেনই বা বলবে না? নিম্নোক্ত কারণে তিব্বতকে পৃথিবীর জলাধার বলা হয়-

১. ইয়াংজী এশিয়ার সবচেয়ে বড় নদী, পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী এবং এর দৈর্ঘ্য ৬৩০০ কি.মি.;

২. ইয়োলো নদী বা হলুদ নদী এশিয়ার ২য় বৃহত্তম নদী চায়নাতে আর পৃথিবীর মধ্যে ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম নদী এবং এর দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কি.মি.;

৩. ইন্দুস নদী তিব্বত থেকে চায়না, পাকিস্তান ও ভারতে প্রবাহিত হয়;

৪. মেকং নদী তিব্বত দিয়ে প্রবাহিত হয় চায়না, মায়ানমার, লাউস,থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে;

৫. গঙ্গা নদী ভারত ও বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়;

৬. শালুয়িন নদী, ইয়ারলু জাংকপো যা ব্রম্মপুত্র নদী, চায়না থেকে শুরু করে ভারতের অরুনাচল প্রদেশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে

এসব নদীগুলো তিব্বত এর থেকে প্রবাহিত হচ্ছে বা এর সাথে সংযুক্ত আছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে যেসব নদী প্রবাহিত হয় তারসাথে তিব্বত মালভূমির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিব্বতের রাজধানী লাসা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তাদের সংস্কৃতি এবং আচার আচরণ গৌতম বুদ্ধের জীবনাদর্শে চলমান। তবে সেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও রয়েছে।

১৯৫০ সালে গণচীন তিব্বতকে স্থায়ী অংশ করার সিদ্বান্ত নেয়। আর এরই ফলশ্রুতিতে এক সময়ের স্বাধীন তিব্বত চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। তীব্বত একদিকে যেমন চীনকে প্রাকৃতিক সম্পদের যোগান দিচ্ছে অন্যদিকে তীব্বতের সীমান্ত ভারতকে চাপে রাখছে।

তিব্বতের পতাকা

সেখানকার ভাষা মূলত আদর্শ তিব্বতি ভাষা। যদিও তিব্বত চায়নার অধীকৃত অংশ, তারপরও তিব্বতের নিজস্ব একটি পতাকা আছে। পতাকাটির নাম “স্নো লায়ন ফ্ল্যাগ” । ১৯৫১ সালের পর থেকে অফিশিয়ালি তিব্বতের এই পতাকাটি ব্যবহার করা যায় নি এবং ১৯৫৯ সালে চীন সরকার তা নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। যদিও পতাকাটি ভারতের ধর্মশালা্তে অবস্থিত কেন্দ্রীয় তিব্বত প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়।

তিব্বতের এই ইয়াক পশুটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত

সেখানে চাষযোগ্য ভূমি কম থাকার কারণে পশুর উপর জীবনধারণ করতে হয়। তিব্বাতিয়ান ইয়াক পশুটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত, যদিও আমাদের দেশের মানুষ খুব কমই প্রাণিটিকে চিনেবে। অবাককর ব্যাপারটা মনে হয়েছে কুকুর নিয়ে। ওখানকার একেকটা কুকুরের সাইজ অতিকায় দীর্ঘ।

তিব্বতে এরকম লোমশ কুকুর পাওয়া যায়

ঘন চুল বিশিষ্ট, বড় পেশিবহুল কুকুর গুলোকে দেখলে আপনার ভিড়মিই খেতে হবে।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

বরফ ঘেষা তীব্বত যেন সমস্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। আপনি একদিকে বরফ চূড়া দেখবেন অন্যদিকে দেখবেন নীরব কিংবা জাগ্রত ঝর্না বয়ে যাচ্ছে অদূরে। হয়তো হারিয়ে যাবেন সেখানকার নদী বহমান চলাচলে। তিব্বতের রাজধানী লাসায় তাপমাত্রা গড়ে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে -১৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাই সেখানে অভিযোজন না করতে পারলে বেঁচে থাকা একপ্রকার দুষ্কর বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তিব্বতে ঘুরে আসতে হলে আপনাকে চীনের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার থেকে আগে ভিসা পেতে হবে। তিব্বত এর ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত আপনি চীনের হাইকমিশনার এর অফিশিয়াল সাইটে পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here