ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্য কন্যা: লোকমুখে অতি প্রচলিত কিন্তু আইনগত কোনো ভিত্তি আছে ?

ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্য কন্যা ঘোষণার ধারণা :

ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্যকন্যা ঘোষণা ধারণাটি আসলে কী?? উক্ত ঘোষণার আইনগত কোনো ভিত্তি আছে কি?? উক্ত ঘোষণার আইনগত ফলাফলই বা কী?? তা অনেকেই জানতে চান। এই লেখার মাধ্যমে প্রত্যুত্তর দেওয়া চেষ্টা করলাম।

মূল কথা:

ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্যকন্যা ধারণার মূল কথা হলো পিতা বা মাতা তার পুত্র বা কন্যা সন্তানের উপর কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে ঘোষণা করেন যে, উক্ত সন্তান তার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অধিকার বা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। এই অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে সন্তানের অবাধ্যতা, ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি। সাধারণত এসব ঘোষণা মৌখিকভাবে হয়ে থাকে। তবে অনেকেই এসব ঘোষণা স্টাম্পে লিখে বা নোটারী করেও করে থাকে।

আইনগত ভিত্তি :

বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু কারো উত্তরাধিকার আইনই ত্যাজ্যপুত্র বা ত্যাজ্যকন্যা ঘোষণার ধারণাকে সমর্থন করে না। অর্থাৎ এ ধরণের ঘোষণার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

আইনগত ফলাফল:

আইনের দৃষ্টিতে ত্যাজ্যপুত্র বা কন্যা ঘোষণার কোনো কার্যকারিতা নেই। কোনো পিতা বা মাতা যদি কোনো অবাধ্য সন্তানকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ত্যাজ্য ঘোষণা করে তাহলে ঘোষণাকারী মাতা বা পিতার মৃত্যুর পর ত্যাজ্য ঘোষিত সন্তান এমনভাবে সম্পত্তির অধিকারী হবে যেন কোন ঘোষণা হয় নি। সহজ কথায় বলা যায়, কোনো সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করা হলে যা না করাও তা। সে উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অংশীদার হবে।

উদাহরণ:

মি.জামিল একজন হিন্দু বা মুসলিম। সে তার অবাধ্য সন্তান শিমুলকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য ত্যাজ্য ঘোষণা করে। মি.জামিল মারা গেলে তার ত্যাজ্য সন্তান শিমুল মুসলিম বা হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তির অংশ পাবে। ত্যাজ্য সন্তান ঘোষণার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।

H.M. Muntasir Romel, Advocate, Supreme Court of Bangladesh & Legal Researcher.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here