পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গঠন

পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলের গঠন

আমাদের এই পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে আছে গ্যাস মিশ্রিত কিছু স্তর। গ্যাস মিশ্রিত এই স্তর গুলো সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্নি শোষণ করে নেয়। এই অতিবেগুনি রশ্নি আমাদের জীব ও প্রানীর জীবনের জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই আমাদের এই বায়ুমণ্ডল অতি প্রয়োজন। আমাদের এই বায়ু মণ্ডল পৃথিবীর অংশ যা মহাকাশে অবস্থান করে। পৃথিবীর বায়ু মণ্ডল সম্পর্কে ব্যারোমিটারের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী টরেসেলি বলেছিলেন, ‘বিশাল এক বায়ু মণ্ডলের তলদেশে আমরা ডুবে আছি’। বিজ্ঞানী টলেরেসির এই কথাটা যথোপযুক্ত কারণ, আমাদের চারপাশে যেই গ্যাসীয় পদার্থ আছে তার ভেতরে আমাদের অবস্থান। তাই আসলে গ্যাসের সমুদ্র তলদেশেই আমাদের বাস। আজ আমরা জানব পৃথিবীর বায়ু মণ্ডল নিয়ে যাতে আমরা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় খুব সহজে বুঝতে পারি।

বায়ুমণ্ডল কী?

 বায়ূমণ্ডল হলো পৃথিবীর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত স্তর যা মধ্যাকর্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী ধরে রাখে।

বায়ুমণ্ডল কী কী উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত?

পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলে ৭৮.৯% নাইট্রোজেন বিদ্যমান, ২০.৯৫% অক্সিজেন বিদ্যমান, ০.৯৩% আর্গন বিদ্যমান ও ০.০৩% কার্বন ডাইঅক্সাইড বিদ্যমান। এর সাথে রয়েছে ১% জলীয় বাষ্প।

বায়ু মণ্ডলের স্তর

বায়ু মণ্ডল মূলত পাঁচটি স্তরে বিভক্ত আছে। যথাঃ

১) ট্রপোমণ্ডল

২) স্ট্রাটোমণ্ডল

৩) তাপমণ্ডল

৪) এক্সোমণ্ডল

৫) মেসোমণ্ডল।

পৃথিবীর বায়ুমন্ডের বিস্তৃতি প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।

ট্রপোমণ্ড

উদ্ভিদ ও প্রাণী যে স্তরটিতে বেঁচে থাকতে পারে সেটাই হলো ট্রপোমণ্ডল। এই স্তরে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণির বসবাসের জায়গা। এই ট্রপোমণ্ডল স্তরটি আমাদের ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আবহাওয়ার কারণে এই উচ্চতার তারতম্য ঘটে যা মেরু অঞ্চলে ৯ কিলোমিটার ও বিষুব অঞ্চলে ১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথেসাথে গ্যাসীয় পদার্থ হালকা ও উচ্চতা কমার কারণে গ্যাসীয় মণ্ডল ভারী হতে থাকে। আমাদের ভূ পৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণের কারণে বায়ু মণ্ডলের অন্য সকল অঞ্চলের চেয়ে ট্রপোমণ্ডল সবথেকে বেশি গরম থাকে। তাই নিচের দিক থেকে ওপরে তাপমাত্রা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। এই ট্রপোমণ্ডল আমাদের বায়ুমণ্ডলের ভরের প্রায় ৮০ ভাগ ধারণ করে।

স্ট্রটোমণ্ড

স্ট্রটোমণ্ডল ট্রপোমন্ডলের ১৫ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে শুরু করে ৫০ বা ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। স্ট্রটোমন্ডলের একেবারে সর্বোচ্চ উচ্চতার বায়ুমন্ডলীয় চাপ আমাদের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০ ভাগের ১ ভাগ। এই স্তরকে ওজন স্তর বলা হয়। এই ওজন স্তর যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্নি শোষণ করে তখন এই স্ট্রটোমন্ডলের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা তখন বাড়তে থাকে যখন অতিবেগুনি রশ্নি শোষণ বেশি করে। এই অঞ্চলের  তাপমাত্রা প্রায় ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মেসোমণ্ড

মেসোমণ্ডল স্ট্রটোমণ্ডলের শেষ সীমানা ৫০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। মেসোমণ্ডলের তাপমাত্রা উচ্চতা বাড়ার সাথেসাথে কমতে থাকে। মেসোমণ্ডলের সীমানা শেষ করে মেসোমণ্ডল বিরতি স্থানের তাপমাত্রা অনেক কম হয় আর এই অঞ্চলের তাপমাত্রা পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল। এই মেসোমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা প্রায় -৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেটা পরে প্রায় -১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। এই অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে মেসোমণ্ডলে জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে যায়।

তাপমণ্ডল

তাপমণ্ডল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উপরে মেসোমণ্ডলের বিরতি অঞ্চল থেকে শুরু। মেসো বিরতি থেকে তাপমাত্রা উপরের দিকে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে যা থার্মোবিরতি পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উচ্চতা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই তাপমণ্ডল অঞ্চলটি আমাদের সূর্যের কারণে কখনও কখনও ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ১,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমণ্ডলের স্তর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে মহাকাশ স্টেশন বিদ্যমান।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

এক্সোমণ্ড

এক্সোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী একটি স্তর। এক্সোমণ্ডল অঞ্চলটি থার্মো বিরতি অঞ্চল থেকে শুরু করে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই এক্সোমন্ডলের পথটি, সমুদ্র থেকে শুরু করে যত দূরত্বে অবস্থান করছে তা চাঁদের দূরত্বে অর্ধেক পথের সমান। এই স্তরে পাওয়া যায় হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বনডাইঅক্সাইড। এই গ্যাসীয় অণুগুলো অনেক দূরত্বে অবস্থান করে যার কারণে এদের একে অপরের সাথে আঘাত প্রাপ্ত হয় না বা সংঘর্ষ হয় না। এই কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল গ্যাসীয় হিসাবে আচরণ করতে পারে না। এই গ্যাসীয় কণা সমূহ নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে মুক্তভাবে ঘুরতে থাকে।

এই হলো আমাদের বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ। এই বায়ুমণ্ডলকে ঘিরেই আমাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে।

আশা করি, এই লেখাটি পড়ে আপনারা সবাই বায়ু মণ্ডলের স্তর সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here