প্রাণিজগতে রূপান্তর


মেটামরফসিস নামে প্রকৃতিতে এক অদ্ভুত এবং জটিল প্রক্রিয়া রয়েছে। এটি হচ্ছে প্রানীর রূপ পরিবর্তনের একটি জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া।প্রাণীর জন্মগ্রহন বা হ্যাচিংয়ের পরে শারিরীক ভাবে বিকাশ,কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজনের মাধ্যমে প্রাণিদেহের গঠনে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।এই শারিরীক পরিবর্তনগুলোর পাশাপাশি জীবের শরীরতত্ত্ব,প্রাণরসায়ন ও আচরণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।


প্রাণীজগতের অসংখ্য প্রাণীর জীবন চক্রে লার্ভা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হতে এই ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সব প্রানীর ক্ষেত্রে যে এমনটা ঘটে তা কিন্তু নয়।মেরুদন্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এইসব নিয়ম একেবারেই প্রযোজ্য নয়। অধিকাংশ অমেরুদণ্ডী প্রাণী যা কিনা নিচু শ্রেণীর কীটপতঙ্গ এবং কিছু শ্রেণির মাছ এবং উভচর প্রাণীর মধ্যে এমন ঘটনা দেখা যায়।


প্রাণীজগতে দুই ধরনের রূপান্তর দেখা যায়-একটি হলো সরল বা আংশিক রূপান্তর এবং অন্যটি সম্পূর্ণ রূপান্তর।সরল বা আংশিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রাণী অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। প্রাথমিক দশায় এর নাম নিম্ফ।নিম্ফ পূর্ণাঙ্গ প্রাণীটিরই ছোট রূপ পরে তা পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হয়ে ওঠে।

ভয় রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয় ডিম থেকে শেষ হয় ভিন্নরূপী পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে। দুই ক্ষেত্রেই প্রাথমিক প্রাণী নিম্ফ বা লার্ভার প্রধান কাজ থাকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুস্টি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রাণির পরিপূর্ণ বৃদ্ধি-বিকাশ এবং পরিপক্কতা অর্জন। এই পরিবর্তনগুলোর সময় প্রাণি এক বা একাধিকবার খোলস পরিবর্তন করে। সরল রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রাণী তৃতীয় পর্যায়েটি পিউপাল স্টেজ মূককীট নামে পরিচিত। এই পর্যায়ে  তারা ঘুমিয়ে থাকে এবং খাদ্যের প্রয়োজন হয়না। অভুক্ত ও পিউপাল স্টেজের স্থায়িত্ব প্রানিভেদে ৬-১০ দিন। এরপর লার্ভার অধিকাংশ টিস্যু এবং অঙ্গগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায় এবং প্রাপ্তবয়স্ক আকারে পুনর্গঠিত হয়ে প্রাণী পিউপা থেকে বেড়িয়ে আসে।


ব্যাঙাচির ব্যাঙে রূপান্তর আর শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতির  রূপান্তর হলো সম্পূর্ণ রূপান্তর। ফড়িং ও তেলাপোকার রূপান্তর হচ্ছে সরল রূপান্তর।এ ছাড়া বিটল প্রজাতির পোকা,মশা-মাছি,মথ,বোলতা ও পিপড়া সম্পূর্ণ রূপান্তরের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। ছাড়পোকা,উকুন,উইপোকা,ঝিঝিপোকা,মাকড়সা,বিচ্ছু,গুইসাপ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আংশিক রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়।


ব্যাঙাচি পানিতে বাস করে,ফুলকার সাহায্যে শ্বসন সম্পন্ন করে এবং শৈবাল-উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করে। কিন্তু ব্যাঙ বাস করে ভূমিতে,ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায় এবং পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। অন্যদিকে প্রজাপতি মধু খেয়ে বেচে থাকে। লোমশ কেচোর মত শূয়োপোকা পিউপাল স্টেজে গুটির মধ্যে আবৃত থাকে এবং পরবর্তীতে বেড়িয়ে আসে রঙিন প্রজাপতি হয়ে।


অপরদিকে ঘাসফড়িং আর তেলাপোকার ক্ষেত্রে নিম্ফ অনেকটা প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর মতোই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয় এদের পাখা ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ।
বর্তমানে প্রাণিজগতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাণী রূপান্তরের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। এরাই প্রাণিজগৎ কে করে দেয় আরো রহস্যময় এবং বৈচিত্রময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here