বাঘ: কত গতিতে দৌড়ায়, কত কেজি মাংস খায় এবং আরো কিছু তথ্য


আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাণীর নাম কি বলতে পারবেন?অনেকেই হয়ত বলবেন এ আবার কেমন প্রশ্ন? প্রাণী কি ভোটে দাড়াবে নাকি যে তার জনপ্রিয়তা লাগবে। এমনই একটা পরিসংখ্যান চালিয়েছিলো অ্যানিমেল প্লানেট নামের একটা টিভি চ্যানেল। তাদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রানী হচ্ছে বাঘ। বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় পশু। শুধু বাংলাদেশই নয় বাঘ ভারতেরও জাতীয় পশু।সিংহ, চিতাবাঘ ও জাগুয়ারের সঙ্গে প্যানথেরা গণের চারটি বিশালাকার সদস্যের মধ্যে এটি একটি। এটি ফেলিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রাণী।


সংস্কৃত শব্দ ব্যাঘ্র থেকে এসেছে বাঘ নামটি। ইংরেজীতে বলা হয় টাইগার। তবে ফার্সি ভাষায় বাঘকে শীর বা শের বলে ডাকা হয়। ফার্সি থেকে হিন্দিতে শের শব্দটি এসেছে। বাঘ শব্দ দ্বারা মূলত বড় শিকারী প্রাণীকে বুঝানো হত যেমন চিতাবাঘ, নেকড়ে বাঘ।


রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং সাইবেরিয়ান বাঘ বাঘেদের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। বিড়াল প্রজাতির মধ্যে বাঘেরা আকারে সবচেয়ে বড় হয় এমনকি এরা সিংহের চেয়েও বড় হয়।বাঘ লম্বায় ৩.৩ মিটার বা ১১ ফিট এবং ওজনে ৩০০ কিলোগ্রাম  পর্যন্ত হয়। তবে পুরুষ বেঙ্গল টাইগার গড়ে ২২১ কিলোগ্রাম ওজনের হয়, আর স্ত্রী বাঘিনী গড়ে ১৩৭ কিলোগ্রাম ওজনের হয়। বাঘ দের ওজন-আকার এসব এর উপপ্রজাতি ভেদে ভিন্ন হয়।


বাঘেরা সাধারণত একাই শিকার করে। শিকারের সময় তারা কোনো ঝোপে ওত পেতে থাকে এবং অপেক্ষা করে শিকারকে সবচেয়ে কাছাকাছি দূরত্বে পাওয়ার জন্য। এদের দৌড়ের গতিবেগ ঘন্টার ৫০-৬৫ কি.মি / ঘন্টা।বাঘেরা পানিতেও শিকার করে। এরা প্রায় ৩২ কি.মি /ঘন্টা বেগে সাতার কাটতে পারে। বাঘেদের ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে প্রিয় শিকার হচ্ছে হরিণ। তারা শিকারের গলায় আক্রমণ করে প্রথমেই শিকারকে কাবু করতে চায়।গলায় কামড় বসানোর জন্য তাদের রয়েছে প্রায় ৪ ইঞ্চি শক্তিশালী ক্যানাইন দাত এবং পায়ে রয়েছে তিন ইঞ্চি নখ।এই নখ দিয়ে শিকারকে আঁচরে কাবু করার চেস্টা করে।
বাঘের সারা বছরই যৌন মিলন হতে পারে।তবে নভেম্বর -এপ্রিল তাদের কাছে সবচেয়ে ভালোসময়। বাঘের গর্ভাবস্থা প্রায় ১০৩-১০৫ দিন। এরা একসাথে দুই থেকে চারটি বাচ্চার জন্ম দেয়। বাচ্চারা সাধারণত মায়ের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। তাদের এই অভ্যাস প্রায় দুই বছর পর্যন্ত থাকে।


বাঘেরা দৈনিক ৫-১৫ কেজি মাংস খায়, তবে সুযোগ পেলে বড় পুরুষ বাঘ ৩০ কেজি মাংসও খেতে পারে। এত মাংসের চাহিদা পূরনে তাদের প্রায় প্রতিদিনই শিকার করা লাগে।তারা সাধারণত রাতেই শিকার করে। আহত বাঘ অনেক আক্রমনাত্মক হয়। মাঝেমধ্যে আহত এবং বৃদ্ধ বাঘেরা শিকার করতে না পারায় খাদ্য ঘাটতি পূরণে লোকালয়ে উঠে আসে। তখনই বাধে যত বিপত্তি।

Image: dailymail.co.uk


তবে বাঘের লোকালয়ে উঠে আসার আরো কারণ রয়েছে আঠারো শতক জূরে বাঘ শিকার খুব জনপ্রিয় ছিলো ইংরেজ এবং জমিদার পরিবারের কাছে।তখন সমাজের উচ্চপদের ব্যক্তিদের কাছে বন্দুক সহজতর হয় এবং নিজেদের বীরত্ব প্রদর্শনে চলে নির্বিচারে বাঘ নিধন। এখন মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে বন নিধন করছে। ফলে নিজেদের বাসস্থান হারিয়ে লোকালয়ে উঠে আসছে বাঘ। লোকালয়ে এসে বাঘ মানুষ শিকার করছে এবং নিজেও মারা যাচ্ছে মানুষের হাতে। এভাবেই দিন দিন কমে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দাড়িয়েছে মাত্র ১০৬টি তে।


বাঘের সংখ্যা শুধু সুন্দরবনেই নয় পুরো পৃথিবী জূরেই কমছে। চামড়া পাচার এবং বাঘের শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গ বিক্রয়ও এর একটি কারণ। বাস্তুসংস্থান ঠিক রাখার জন্য বাঘের বেচে থাকারও প্রয়োজন আছে। আমাদের বাঘ বাচাতে বন নিধন যেমন বন্ধ করতে হবে তেমনি সবাইকে একযোগ হয়ে ভেঙ্গে দিতে হবে স্মাগলারদের কালো হাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here