মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার: পার্থক্য ও প্রয়োজনীয়তা

মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার

মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজে বেচে থাকতে হলে এই দুইটি জিনিষের অধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে বেচে থাকতে হলে আমাদের ন্যায় ও সমান অধিকার নিয়ে বেচে থাকতে হবে। যেই সমাজের সকল মানুষের মধ্যে সমঅধিকার ও ন্যায়ের বিধান সুমন্নত নয় সেই সমাজের মানুষ মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। যে রাষ্ট্রে মানবাধিকার ও মোলিক অধিকার উপেক্ষিত সেই রাষ্ট্রের মানুষের জনজীবন অরক্ষিত। যখন একটি রাষ্ট্রের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার অনুপস্থিত থাকবে সেখানে বেচে থাকার অধিকার কোনঠাসা হয়ে পড়বে। মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের ভিতর একটি পার্থক্য আছে যা আমরা অনেকে বুঝতে পারিনা।

মৌলিক অধিকার

মানুষের সামাজিকভাবে বেচে থাকার জন্য যেই অধিকারগুলো প্রয়োজন তা যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে রাষ্ট্রের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয় ও সাংবিধানিকভাবে তা সংরক্ষন ও নিশ্চয়তার বিধানের জন্য আইন প্রনয়ন করা হয় তখন তাকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্র যেহুতু কিছু অধিকারকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত দিয়েছে ও তা রক্ষার জন্য আইন প্রনয়ন করেছে তাই এইগুলো মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকারকে আমরা মৌলিক আইনও বলতে পারি। মৌলিক অধিকার একটি দেশের রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয়ে দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ হয় যা রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে।

মানবাধিকার

একটি মানুষকে সমাজে বেচে থাকার জন্য যে অধিকারের প্রয়োজন পড়ে তাকে মানবাধিকার বলে। সমাজে একেক মানুষের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বিশ্বাস, একেক রকমের হয়ে থাকে। রাষ্ট্রের যে কোন মানুষ তার বিশ্বাস ও কর্ম অনুযায়ী যে সকল অধিকারের প্রয়োজন তাকে মানবাধিকার বলে। এখানে, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র যাই হোক না কেন সেই অনুযায়ী যে অধিকার তার প্রয়োজন তাই মানবাধিকার। অর্থাৎ সব মানুষের সমান ভাবে বেচে থাকার অধিকার আছে। আছে বিভিন্ন বর্ণের সাদা-কালো মানুষের বেচে থাকার অধিকার, আছে ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষের বেচে থাকার অধিকার, আছে ভিন্ন রাজনৈতিক মতালম্বি মানুষের সমান ভাবে বেছে থাকার অধিকার।

মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের পার্থক্য

মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার ভিতর মিল অনেক থাকলেও পার্থক্যটা সুক্ষ। কারন, মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু মানবাধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ সকল মৌলিক অধিকার মানবাধিকার কিন্তু সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়। সব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত না হলে যে সেই অধিকার মানুষের প্রয়োজন নেই তা কিন্তু নয়। তাই মানুষের মানবাধিকার অবশ্যই প্রয়োজন। আইনগতভাবে এই দুইটি বিষয়ের বিভিন্ন দিক আছে। তার পরও এই দুইটি বিষয় সমাজের সাম্যতা ও ন্যায় ফেরাতে এক লক্ষ্যে কাজ করে যায়। যেখানে মানুষ তার মূল অধিকার ও বেচে থাকার সকল অধিকার পেতে পারে তা নিশ্চিত করা মানবাধিকার ও মৌলিকা অধিকারের কাজ।

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

মৌলিক অধিকার হল মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধিকার যা তার বেচে থাকার জন্য অতি প্রয়োজন। মৌলিক অধিকার ছাড়াও কিছু অধিকার আছে যা মানুষকে সুন্দরভাবে তার চিন্তা, বিশ্বাস, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোত্র, বলার অধিকার, সর্বত্র চলার অধিকার, প্রতিবাদ করার অধিকার, তার বিশ্বাসের উপর প্রকাশ্য মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি হল মানবাধিকার। মৌলিক অধিকারগুলো আমাদের রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হওয়ায় আমরা তার পরিপুর্ন সুবিধাগুলো পেয়ে থাকি। কারন, আইনের বাধ্যতা আছে আমাদের মোলিক অধিকারগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু মানবাধিকার আমাদের আইনি সুবিধা দিতে পারেনা কারন তা আমাদের রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নয়। মৌলিক অধিকারের সীমা নির্ধারিত কিন্তু মানবাধিকারের সীমা নির্ধারিত নয়। মানবাধিকারের সীমানা আজ সারা পৃথিবী ব্যাপি। মানবাধিকার সারা পৃথিবীর মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে কিন্তু মোলিক অধিকার শুধু একটি দেশ নিয়ে কাজ করে। একেক দেশে মৌলিক অধিকার একেক রকম। মৌলিক অধিকার একটি দেশের সীমানায় আবদ্ধ থাকে রাষ্ট্রের সংবিধানে ।

অন্যদিকে মানবাধিকার জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত। মৌলিক অধিকারগুলো আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়। মানবাধিকার আইন দ্বারা বলবৎ করা যায় না। সব অধিকার মানবাধিকার কিন্তু সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার না। মানবাধিকার অনেক উচ্চ মানের অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আমাদের মৌলিক অধিকার ৫ টি । তার ভিতর “ভয়হীন ভাবে বাচার” কোন অধিকারের কথা বলা হয়নি এটা আছে মানবাধিকার আইনে। এরকম অসংখ্য অধিকার আছে যা আমরা পাইনা। আমাদের সুন্দর ভাবে বেচে থাকার জন্য মানবাধিকার প্রয়োজন।  কিন্তু মানবাধিকার আমাদের দেশের মৌলিক অধিকার না হওয়ায় রাষ্ট্র এর সুবিধা দিতে পারে না। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রনীত মানবাধিকার বাস্তবায়নের কিছু আইন আছে। যেখানে ২৫ টি ধারার মাধ্যমে সারা পৃথিবীর নানান বর্ণের, ধর্মের, বিশ্বাসের, জাতির, গোত্রের, লিংগের মানুষের নিরাপদ ভাবে বেচে থাকার অধিকারের কথা বলা আছে। আজ বেশিরভাগ দেশের সামগ্রিক অবস্থার কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় এখানে মানুষ তার রাজনৈতিক মত প্রকাশের বাধা, বিচারহীনতা, বিচার বহির্ভূত শাস্তির বিধান ও সকলের মত প্রকাশে বাধার মত অনেক মানবাধিকার আজ অনুপস্থিত। তাই মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি আমাদের মানবাধিকারও প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার।

Image: safety4sea.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here