ইসলামের আলোকে মানব জীবন চক্র

মানব জীবনকে একটা রঙিন পালকের সাথে তুলনা করা যায়। একটা রঙিন পালককে- ডান, বাম, উপর, নীচ করলে যেমন রঙ বদলায়; ঠিক তেমনি একটা জীবনের অতীত (শুরু), বর্তমান, ভবিষ্যৎ (শেষ পরিণতি) প্রতিটা বাকে বাকে বিভিন্ন রঙের ছোঁয়া দেখা যায়। বলা হয়- জীবন কখনো রঙীন-কখনো ধূসর, কখনো বা সাদা-কালো, কখনো জীবন স্বপ্নের মত, কখনো বা বিশাল ধাঁ ধাঁ। আসলেই মানব জীবন বিভিন্ন ধাপ আর ঘাতপ্রতিঘাতের সমাহার। এখানে মানুষের জীবনের এমন কিছু বাস্তবতা ইসলামের আলোকে আলোচনা করতে চাই, যে বাস্তবতার বাহিরে যাওয়ার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই।

প্রথমতঃ মৃতজীবিতমৃতজীবিতঃ

মায়ের গর্ভে মানব দেহ গঠন হয় আগে, পরে ঐ দেহে প্রাণ আসে; এই জীবন পরিপুর্ণ হয় জন্মের পর বিভিন্ন পর্যায়ে। দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যুর পর আবার আল্লাহ জীবন দিবেন পূর্বের ন্যায় যাকে পরকালের জীবন বলা হয়। যেমন কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে (ক) নিষ্প্রাণ/ মৃত; অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে (খ) জীবিত করেছেন/প্রাণ দান করেছেন; (গ) আবার মৃত্যু দান করবেন; (ঘ) পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে (সুরা বাকারাহ ২৮)।

অর্থাৎ, মানব জীবনের চার পরিণতি।

ক। মৃত আমরা জন্মের আগে মৃত ছিলাম। যেমন আল্লাহ অন্যত্র বলেন-“মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না” (সূরা মারইয়াম ৬৭)।

খ। জীবিত মৃত থেকে জীবন শুরু হয়েছে; এখন জীবিত আছি।

গ। মৃত আবার মৃত্যু বরণ করতে হবে।

ঘ। জীবিতআবার জীবন দান করবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-“যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি করেছি সেভাবেই আমি সেটার পুনরাবর্তন ঘটাব” (সূরা আল-আম্বিয়া ১০৪)।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গর্ভের শিশুর হার্টবিট কখন থেকে শুরু হয়?

এখন বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার হওয়াতে অনেক আগেই বাচ্চার হার্ট বিট সনাক্ত করা সম্ভব হয় এমনকি মায়েরাও গর্ভের বাচ্চার হার্টবিট শুনতে পারেন। গর্ভাবস্থার পঞ্চম সপ্তাহেই গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ডের গঠন শুরু হয়ে যায়। সাধারণত গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহ নাগাদ বাচ্চার হার্টবিট শুরু হয়। তবে এ সময় বাচ্চার হৃদপিণ্ড এতটাই ছোট থাকে যে তা আল্ট্রাসাউন্ড বা ডপলার মেশিনে ধরা পড়ার মত শব্দ উৎপন্ন করতে পারেনা। গর্ভাবস্থার ৮ সপ্তাহ নাগাদ যদি আলট্রাসাউন্ড করা হয়ে থাকে তবে এ সময় বাচ্চার হার্টবিট বোঝা যেতে পারে। ডপলার মেশিনে ১০ সপ্তাহ নাগাদ বাচ্চার হার্টবিট বোঝা যেতে পারে তবে সাধারণত ১২ সপ্তাহে তা ঠিকমতো বোঝা যায়। কত তাড়াতাড়ি বাচ্চার হার্টবিট মেশিনে ধরা পড়বে তা নির্ভর করে মায়ের জরায়ুতে বাচ্চার অবস্থান, প্লাসেন্টার অবস্থান এবং মায়ের ওজনের উপর। অর্থাৎ, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমরা জানতে পারছি গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই মানব দেহে প্রাণ থাকেনা। একটা নির্দিষ্ট সময় পর প্রাণ আসে।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানব দেহে প্রাণের অস্তিত্ত কখন আসে বা এই প্রাণ কে দেয়?

কোরানের বর্ণনায় প্রাণকে “রুহ” বলা হয় আর এটি আল্লাহর সৃষ্টি, তার হুকুমে পরিচালিত। যেমন আল্লাহ্‌ বলেছেন, তারা তোমাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলে দাও, রুহ আমার রবের হুকুমঘটিত বিষয়। কিন্তু তোমরা সামান্য জ্ঞানই লাভ করেছ [সুরা বনি ইসরাঈল ৮৫]

শরীর সৃষ্টির পর আল্লাহ গর্ভে রুহ (আত্মা) ফুঁকে দেন। এর দলিল হল- আল্লাহ্‌ তাআলা আদম আঃ কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তার দেহে রুহ ফুঁৎকার করেছেন। এবং আদমের সকল সন্তানের মাঝে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ্‌ বলেছেন, “অতঃপর যখন তাকে (আদম আঃ কে) পরিপূর্ণ আকৃতি দান করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তাকে সেজদা করবে” (সূরা হিজর ২৯)।

মহান আল্লাহ মায়ের গর্ভে মানুষের আকৃতি সৃষ্টি করে তার ভেতর রুহ দান করেন। তখন তার ভাগ্যলিপিতে কিছু বিষয় লিখে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ তার মায়ের পেটে ৪০ দিন বীর্যরূপে জমা থাকে। তারপর পরিবর্তিত হয়ে রক্তপিণ্ডের আকার হয়। এরপর পরিবর্তিত হয়ে মাংসপিণ্ড হয়। অতঃপর আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা পাঠিয়ে রুহ ফুঁকে দেন। আর তার প্রতি চারটি নির্দেশ দেওয়া হয়। লিখে দেওয়া হয় তার আয়ু, তার জীবিকা, তার আমল এবং সে দুর্ভাগা, না সৌভাগ্যবান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৩২)

রুহ বা আত্মা যৌগিক নাকি মৌলিক পদার্থ—এ প্রসঙ্গে দার্শনিকদের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই মতভেদ চলে আসছে। ইমাম গাজালি, ইমাম রাজি এবং বেশির ভাগ সুফি দার্শনিকের অভিমত হলো, রুহ কোনো যৌগিক পদার্থ নয়; বরং এটি একটি সূক্ষ্ম মৌলিক পদার্থ। কিন্তু বেশির ভাগ আলেমের মতে, রুহ একটি সূক্ষ্ম দেহবিশিষ্ট বস্তু। এ অভিমত অনুযায়ী রুহ যদি সূক্ষ্ম দেহবিশিষ্ট কোনো বস্তু হয়, তাহলে সেটা ফুঁকে দেওয়ার অনুকূল। আর যদি রুহকে সূক্ষ্ম পদার্থ মেনে নেওয়া হয়, তাহলে রুহ ফুৎকার করার অর্থ হলো মানবদেহের সঙ্গে তার সংযোগ স্থাপন করা।

অর্থাৎ, উক্ত আলোচনা থেকে আমরা বোঝতে পারছি, আমরা মাতৃগর্ভে প্রথমে মৃত ছিলাম— যেমন আল্লাহ বলেন, মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না (সূরা মারইয়াম ৬৭) আল্লাহ মানব দেহের সৃষ্টি রহস্য বর্ণনা করেছে এভাবে, অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। [সূরা আল মু’মিনূন ১৩-১৪]

মৃত্যুর পর আবার জীবিত হওয়ার ব্যাপারে কোরানের দলিল বা যুক্তি কী?

যেমন আল্লাহ বলেন, তারা বলেঃ যখন আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি নতুন করে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব? বলুনঃ তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহা।অথবা এমন কোন বস্তু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন; তথাপি তারা বলবেঃ আমাদের কে পুনরায় কে সৃষ্টি করবে। বলুনঃ যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃজন করেছেন। অতঃপর তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবেঃ এটা কবে হবে? বলুনঃ হবে, সম্ভবতঃ শ্রীঘ্রই (সূরা বনী ইসরাঈল ৪৯-৫১)।

আল্লাহ আরও বলেন, তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি (সূরা বনী ইসরাঈল ৯৯)।

কিন্তু  অবিশ্বাসীরা বলে, আমাদের পার্থিবজীবনই একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই এবং আমারা পুনরুত্থিত হবো না (সূরা আল মু’মিনূন ৩৭)। কিন্তু আল্লাহ ব্যাখ্যা দেন, “তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য; নিশ্চয়ই তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন, যাতে এরূপ লোকদের যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফ মত প্রতিফল প্রদান করেন (সূরা ইউনুস ৪)।

আল্লাহ আরও বোঝিয়ে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? (সূরা আল আন-আম ৯৫)। তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে (সূরা আল আন-আম ৯৯)।

দ্বিতীয়তঃ দুর্বলশক্তিশালীদুর্বল/বার্ধক্যঃ

মানুষের জীবন শুরু হয় দুর্বল শরীরে। আবার পূর্ণ বয়সে শক্তিশালী হয়; আবার বার্ধক্যে দুর্বল হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ বলেন,তিনি আল্লাহ যিনি (ক) দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর (খ) দুর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর (গ) শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান (সূরা আর-রুম ৫৪)।

জীবিত অবস্থায় মানুষের জীবনে তিন পরিণতি—

ক। মায়ের কোলে ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তোমরা থাকো অত্যন্ত দুর্বল— যেমন আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর (সূরা নাহল ৭৮)।

খ। কিন্তু কিশোর ও যুবক বয়সে তোমাদের শারিরীক শক্তি থাকে প্রবল।

গ। এই শক্তিধর ব্যক্তি বার্ধক্যে আবার দুর্বল হয়ে যায়।

মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের এই পরিবর্তন ঘটে এক আল্লাহর নির্দেশে এবং এসব ঘটনায় মানুষের কোনো হাত নেই। বিশ্বজগত সৃষ্টিতে যদি মানুষের হাত থাকত তাহলে কেউই বয়স্ক বা বৃদ্ধ হতে চাইত না কারণ বয়স হয়ে গেলে মানুষের জীবনী শক্তি কমে আসে এবং সে দুর্বল হয়ে যায়। সবাই যৌবন ধরে রাখার চেষ্টা করত। কিন্তু এর কোনো কিছুতেই মানুষের হাত নেই বলে তাকে বিধাতার নিয়ম মেনে চলতে হয়। উক্ত তিন অবস্থাই বাস্তব যা অস্বীকার করার উপায় নাই।

তৃতীয়তঃ বৃদ্ধাবস্থায় আবার শিশু অবস্থায় ফিরে যায়

মানুষের শরীর বার্ধক্যে দুর্বল হয়ে যায়, চিন্তা শক্তিও লোপ পায় যেন শিশু অবস্থায় ফিরে যায়— যেমন আল্লাহ বলেন, “আমি যাকে দীর্ঘ জীবন দান করি, তাকে সৃষ্টিগত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেই (শারিরীক ও চিন্তাশক্তির দিক দিয়ে দুর্বল)। তবুও কি তারা চিন্তা করে না?” (সূরা ইয়াসিন ৬৮)।

পার্থিব জীবনের শাস্তির প্রতি ইঙ্গিত করার পর এই আয়াতে বলা হচ্ছে: সব মানুষ বৃদ্ধাবস্থায় শারিরীক ও চিন্তাশক্তির (অর্থাৎ তার স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও প্রাণশক্তি লোপ পায়) দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে আবার শিশু অবস্থায় ফিরে যায়। কাজেই আমরা যদি ঈমানদার হতে ও সৎপথ অবলম্বন করতে চাই তাহলে যৌবনে বা অন্তত মধ্যবয়সের মধ্যেই তা করতে হবে। ‘বয়স হলে ভালো হয়ে যাব’ এটি যে একটি অবান্তর ধারণা তা এই আয়াতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন মহান আল্লাহ।

শারিরীক এই দুর্বলতার ঊর্ধ্বে ওঠা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই বৃদ্ধাবস্থা চলে আসার আগেই আমাদেরকে আল্লাহ প্রদত্ত মূল্যবান সময়কে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি আমলে সালেহ বা সৎকাজ করতে হবে। এর ফলে আমরা যেমন নিজেদের পারলৌকিক মুক্তি নিশ্চিত করতে পারব তেমনি সমাজও আমাদের দ্বারা উপকৃত হবে।

চতুর্থতঃ মৃত্যু অবধারিত – ইহা কারণে বা অকারণে ঘটতে পারে—

কোরআনে অনেক আয়াতে আল্লাহ এই বাস্তবতার কথা বলেছেন। যেমন- হে নবী ওদের বলুন,“যে মৃত্যু থেকে তোমরা পালাতে চাচ্ছ, তোমাদেরকে সে মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হবে” (সূরা জুমুআহ ৮)।“প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে“ (সূরা আম্বিয়া ৩৫)।“অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরান্বিত করতে পারবে না” ( সূরা নাহল ৬১)।“কেউই জানে না আগামীকাল তার জন্যে কী অপেক্ষা করছে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু হবে। শুধু আল্লাহই সর্বজ্ঞ, সব বিষয়ে অবহিত”(সূরা লোকমান ৩৪)।“আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো মৃত্যু হতে পারে না; সেজন্য একটা (মৃত্যুর) সময় নির্ধারিত রয়েছে” (সূরা আলে ইমরান ১৪৫)।“হে মানুষ! আমিই জীবন দান করি। আমিই মৃত্যু ঘটাই। আমার কাছেই সবাইকে ফিরে আসতে হবে” (সূরা ক্বাফ ৪৩-৪৪)।“আল্লাহই তোমাদের জীবন দান করেছেন, তিনিই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন” (সূরা হজ ৬৬)। অর্থাৎ, মৃত্যুকে কোন প্রাণীই এড়িয়ে যেতে পারেনি এবং পারবেও না। এটা সকল প্রাণীর অবধারিত পরিণতি।

ঘুম এক প্রকার মৃত্যুঃ আল্লাহ মৃত্যু এলে বা ঘুমের সময় আত্মাকে তুলে নেন। তারপর যার মৃত্যু অবধারিত তার আত্মা রেখে দেন। আর অন্যদের আত্মা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ফিরিয়ে দেন। সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীদের জন্যে এর মধ্যে শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে!’ (সূরা জুমার ৪২)

মৃত্যু যখন হয়ঃ “মানুষের প্রাণ যখন তার কন্ঠনালী পর্যন্ত এসে যাবে এবং তাকে বলা হবে, (এ বিপদের সময়) কে ঝাড় ফুঁক করবে? সে (তখন ঠিকমতই) বুঝে নেবে যে, (পৃথিবী থেকে ) বিদায়ের ক্ষণ এসে গেছে। (আর এভাবেই) তার (এজীবনের শেষ) পা (পরের জীবনের প্রথম) পা’র সাথে জড়িয়ে যাবে। আর সেদিনটিই হবে তোমার পালনকর্তার দিকে তার (অনন্ত) যাত্রার (প্রথম) সময়” (সূরা ক্বিয়ামাহ ২৬-৩০)। “অতঃপর যখন কোন মানুষের প্রাণ তার কন্ঠনালীতে এসে পৌঁছে যায়, তখন তোমরা (কেন অসহায়ের মত) তাকিয়ে থাকো, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। তোমরা যদি এমন অক্ষম নাই হও আর (তোমাদের ক্ষমতার দাবীতে) সত্যবাদী হও, তাহলে কেন সে (বেরিয়ে যাওয়া) প্রাণকে (পুনরায় তার দেহে) ফিরিয়ে আনো না!” (সূরা ওয়াক্বিয়াহ ৮৩-৮৭)

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই আলোচনা কারও ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়; এটি ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক একটি আলোচনা যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সমর্থিতউক্ত আলোচনা যদি কারও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

মাজহারুল ইসলাম, আইনজীবী এবং কোরআন গবেষক

Mail: mazharkj528@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here